D.ED লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
D.ED লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

D.El.Ed শংসাপত্রে নয়া জটিলতা, NIOS-র বিরুদ্ধে হাইকোর্টে স্বস্তি শিক্ষকদের

 

কলকাতা: ডিপ্লোমা ইন এলিমেন্টারি এডুকেশন বা ডিএলএড মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে স্বস্তি পেলেন শিক্ষকদের একাংশ। ডিএলএড প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরও শংসাপত্র নিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেনরাজ্যের প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষকদের একাংশ। এনআইওএসের শংসাপত্র না পাওয়ায় চাকরি নিয়ে সংকট পড়েছিলেন শিক্ষকদের একাংশ। বর্ধিত বেতন থেকে বঞ্চিতও হচ্ছিলেন তাঁরা। সমস্যা সমাধানে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন শিক্ষকদের একাংশ। সেই মামলার শুনানিতে শংসাপত্র না পাওয়া শিক্ষকদের বড়সড় স্বস্তি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

শুক্রবার মামলাটি ওঠে বিচারপতি রাজশেখর মান্থার বেঞ্চে। মামলার শুনানিতে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, যত দিন না পর্যন্ত বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। হাইকোর্টের নির্দেশ চাকরি নিয়ে টানাপোড়েন কিছুটা কমলেও বর্ধিত বেতন তাঁরা এখন পাবেন কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তবে, বর্ধিত বেতন নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও আগামী ৩ সপ্তাহ পর আবারও শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। সেদিন রাজ্যের আডভোকেট জেনারেল ও কেন্দ্রের অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেলকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

অভিযোগ, ২০০৯ সালে সালের শিক্ষার অধিকার আইনে NCTE বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে জানিয়ে দেওয়া হয়, ২০১৯ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষককে প্রশিক্ষিত হতে হবেই। ওই নির্দেশের পর দু'বছরের ডিএলএড কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন বহু শিক্ষক। কিন্তু পরে আচমকা NIOS-এর তরফে জানানো হয়, উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০ শতাংশের কম নম্বর পাওয়া শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ নিলেও শংসাপত্র দেওয়া হবে না। উচ্চ মাধ্যমিকে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর থাকলে মিলবে ডিএলএড শংসাপত্র। NIOS-র নির্দেশ ঘিরে চরম দুর্ভোগে পড়েন প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষকদের একাংশ। চাকরি বাঁচাতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন তাঁরা।

নতুন নির্দেশিকা জারি করে এনআইওএস সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এখন থেকে যে সমস্ত ডিএলএড প্রার্থী তাঁদের উচ্চমাধ্যমিকের নম্বর বাড়িয়ে ৫০% করেছেন, শুধুমাত্র তাঁরাই পাবেন শংসাপত্র। আর তাতেই চকম বিপাকে পড়তে চলেছেন বাংলার বহু প্রাথমিক শিক্ষক। ডিএলএডের পাঠ্যক্রম শেষ করেও অনেকেই শংসাপত্র হাতে পাননি। ২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডিএলএড প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করেছিল। বলা হয়েছিল, বাধ্যতামূলক ভাবে রাজ্যের সকল প্রশিক্ষণহীন শিক্ষক শিক্ষিকাকে ডিএলএড প্রশিক্ষণে ভর্তি হতে হবে। এক্ষেত্রে, কর্মরতদের যাঁদের উচ্চমাধ্যমিকে ৫০ শতাংশ নম্বর নেই তাঁদের ডিএলএড করতে হলে 'আপগ্রেডেশন' অথবা পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে নম্বর বাড়াতে হবে না। কিন্তু নতুন ফরমানে সেই নোটিশের বিপরীত অবস্থান দেখা গেল। বর্তমানে একমাত্র তাঁরাই শংসাপত্র পাবেন, যাঁদের উচ্চমাধ্যমিকের নম্বর ৫০ শতাংশে আপগ্রেড করা হয়েছে।

হঠাত্‍ করে সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছে একাধিক ডিএলএড প্রশিক্ষিত প্রার্থী। এতদিন কোনও সময়সীমা ছিল না এ বিষয়ে। প্রার্থীদের মধ্যে প্রসেনজিত্‍ রায় জানিয়েছেন, গত ৭ আগস্ট এনআইওএস হঠাত্‍ করে সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় চিন্তিত শিক্ষক শিক্ষিকাদের একাংশ। তাঁর মতে, এতদিন নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা না থাকায়, বাড়তি নম্বরের সংস্থান করে ওঠা হয়নি। তাই তাঁরা দাবি করেছেন, ২০২০ সাল পর্যন্ত যাঁরা ডিএলএড প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তাঁদের সকলকে নম্বর 'আপগ্রেড' করার সময় দিতে হবে। অন্যদিকে, এনআইওএস সাফ জানিয়ে দিয়েছে, শুধু প্রশিক্ষণ নিলেই হবে না, ২০১৯ এর মে মাসের মধ্যে যাঁরা তাদের উচ্চমাধ্যমিকের নম্বর আপগ্রেড করে ৫০শতাংশ করেছেন তাঁরাই কেবল শংসাপত্র পাবেন। ফলে বিপাকে পড়ে অনেকেই রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয়ে নম্বর বাড়াতে ভর্তি হয়েছেন। নিখিল বঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহন দাস পণ্ডিতের মতে, প্রশিক্ষিত হয়েও যদি ডিএলএডের শংসাপত্র না মেলে তাহলে তার কোনও গুরুত্ব থাকবে না। এ বিষয়ে এনআইওএসের থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।